শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন
ভয়েস ডেস্ক:
সারা দেশে বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলাতে ইতোমধ্যে অস্থায়ী বন্যা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক আবহাওয়ার সর্বশেষ
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত ১৪ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও বেশি জলীয়বাষ্প প্রবেশ করতে পারে এবং ১৩ জুলাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সময়ে কয়েকটি জেলার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত কেন্দ্রটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলেও বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে সাঙ্গু, মাতামুহুরি, খোয়াই এবং কুশিয়ারার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা দেখছে না বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র এবং রবিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।’
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং আগামীকাল রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও এরপর ধীরে ধীরে কমতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনীসহ পাঁচটি নদীর নয়টি স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। এছাড়া নয়টি পয়েন্টে নদীর পানি এখনও বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার বিপত্সীমার উপরে রয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা, কুশিয়ারা, সুরমা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী নদীর আরও নয়টি স্টেশন সতর্কসীমায় রয়েছে। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে তিস্তার ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারার শেরপুর; সুরমার কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্ট। গত ২৪ ঘণ্টায় উজানে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদীর পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বেড়েছে, ৪৩টিতে কমেছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ, রাডার ও আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আজ শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে বিভিন্ন জেলার উপরে বৃষ্টিপাতের প্রবল আশংকা করা যাচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার ও বান্দরবন, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টানা বর্ষণ চলছে। আজ সকাল ৮টার মধ্যে আবারও চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলার উপরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবল আশংকা করা যাচ্ছে। ফলে এই ৪টি জেলার নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতা শনিবার আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশংকা করা যাচ্ছে। আজ সকাল ৮টার মধ্যে সিলেট বিভাগের সকল জেলার উপরে মাঝারি থেকে ভারী মানের বৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার উপরে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে রাজশাহী বিভাগের বেশিভাগ জেলার উপরে হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টির প্রবল আশংকা করা হচ্ছে। বরিশাল বিভাগের বেশিভাগ জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। আজ সকাল ৮টার মধ্যে বরিশাল বিভাগের সকল জেলার উপরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবল আশংকা করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের দক্ষিণ দিকের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে খুলনা বিভাগের বেশিভাগ জেলায় হালকা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। আজ সকাল ৮টার মধ্যে রংপুর বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র:পূর্বকোণ